জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার

গত অর্থবছরে রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারা অব্যাহত রয়েছে চলতি অর্থবছরেও। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।

গত অর্থবছরে রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারা অব্যাহত রয়েছে চলতি অর্থবছরেও। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) টাকা। এর আগে, গত অর্থবছরের একই সময়ে ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। অর্থাৎ গত অর্থবছরের প্রথম মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই মাসে প্রবাসীরা প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশে বৈধ পথে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সবশেষ মাস জুনে বৈধপথে ২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার এসেছিল। দেশে একক মাস হিসেবে এ মাসে বৈধপথে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে। এর আগের মাস তথা মে-তে রেমিট্যান্স এসেছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার।

দেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল চলতি বছরের মার্চে। ঈদুল ফিতরের ওই মাসে রেকর্ড ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার পাঠান প্রবাসীরা। সব মিলিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন (৩ হাজার ৩২ কোটি) ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। এক বছরের হিসাবে দেশের ইতিহাসে প্রবাসীরা এত রেমিট্যান্স এর আগে আর কখনো পাঠাননি।

গত অর্থবছরের আগে দেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে। কভিড মহামারীর কারণে ওই বছরে প্রবাসীরা ২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠান। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২১-২২ অর্থবছরে ২১ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে আসে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা বেড়ে ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়।

গত অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরেও রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকায় দেশের অর্থনীতির ভারসাম্য ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে দেশে ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল। অর্থনীতির জন্য একটি স্বস্তির জায়গা। প্রবাসীদের এ ধারাবাহিক রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে ও সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে একদিকে যেমন অভ্যন্তরীণ মুদ্রানীতিতে স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ার ফলে ডলারের বিনিময় হারেও স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে।’

আরও